বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতের সুপারিশকে কেন্দ্র করে সরকারের অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এসব উদ্যোগ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
টিআইবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ—এই তিনটি বিষয় হুবহু বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করে দ্রুত আইন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কয়েকটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। এসব অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পৃথক সচিবালয় শক্তিশালী করার যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা বাস্তবায়নে এই সিদ্ধান্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
টিআইবি আরও জানিয়েছে, মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকরভাবে গড়ে তোলার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংগঠনটির মতে, একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কাঠামো না থাকলে নাগরিক অধিকার রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই অবস্থান আত্মঘাতী হতে পারে, কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়ে এবং জবাবদিহি কমে যায়।
টিআইবি গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, এসব বিধান দুর্বল করা বা যাচাই-বাছাইয়ের নামে বিলম্বিত করা হলে তা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। সংস্থাটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে অংশীজনদের মতামত নিয়ে আইন হিসেবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

