দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি—পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প—নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
এই অনুমোদনের ফলে এখন আর বড় কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি এপ্রিল মাসের শেষ দিকেই প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কমিশনিং লাইসেন্স ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষা।
অন্য এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য অতিরিক্ত সময় নেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব দিক বিবেচনা করে অবশেষে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থার পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তাদের আশা, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবং জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি লোডিং ধাপটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পর্যায়। এই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

