২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের একদিন পর আজ বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের পর অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর ব্যবস্থা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং বাজেট বাস্তবায়নের কৌশল তুলে ধরতেই আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের অগ্রাধিকার খাত, রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের রূপরেখা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেন তিনি।
এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে সরকার। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারায় এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রণীত এই বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্ভাবন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা, রাজস্ব সংগ্রহ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর। ফলে আজকের সংবাদ সম্মেলন শুধু বাজেটের ব্যাখ্যা নয়, বরং সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাজেট নিয়ে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে অর্থমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের দিকে এখন নজর রয়েছে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ নাগরিকদের। তাঁর বক্তব্যে আগামী অর্থবছরের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার রূপরেখা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

