দেশের শিক্ষাখাতে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ধর্মীয় শিক্ষা এবং বিভিন্ন স্তরের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রায় ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ছিল। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে শূন্যতা বেশি থাকায় শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নতুন এই নিয়োগ কার্যক্রম সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু শিক্ষক নিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের উদ্যোগ। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে একাধিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া।
উপজেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন খেলাধুলার জন্য ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মহানগর এলাকাগুলোতে উন্মুক্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা আবার চালু করা হয়েছে। এবার এতে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া এবং কোরআন তিলাওয়াত, যা শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এছাড়া জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। প্রায় ২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা এবং পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারেও জোর দিচ্ছে সরকার। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার জন্য পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে আনন্দভিত্তিক শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে যুক্ত করে শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এই খাতকে যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রকে উৎসাহিত করতে ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ‘স্পোর্টস অ্যালাউন্স’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদ ভাতা পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, শিক্ষক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

