বাংলাদেশ-ভারত জ্বালানি সহযোগিতার আরেকটি ধাপ হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে নতুন করে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে সরবরাহকৃত এই জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পৌঁছেছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় পাইপলাইনের মাধ্যমে এই চালানটি পৌঁছায়।
এর ফলে চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন এবং চলতি বছরে মোট ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সরবরাহ কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে, যা দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতের নুমালিগড় থেকে পাইপলাইনে আসা ডিজেল পার্বতীপুরে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
এই পাইপলাইন চালুর ফলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ এখন অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে তেল আনতে যেখানে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত, এখন সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি আমদানি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর ভারত থেকে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ করা হবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই পাইপলাইন শুধু জ্বালানি সরবরাহ সহজ করেনি, বরং দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

