দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্যাংকারে পেট্রোল ও অকটেন জমে থাকলেও তা গ্রহণ করছে না সরকারি সংস্থা, ফলে একদিকে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে গুদামে তেল আটকে থাকার দ্বৈত সংকট তৈরি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের মোট চাহিদার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই পূরণ করে স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন জ্বালানি প্রয়োজন হয়, যার একটি বড় অংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। এর মধ্যে একটি শীর্ষ কোম্পানি একাই প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে সরকারি সংস্থা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের তেল গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এতে তাদের সংরক্ষণ ট্যাংক প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে এবং উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও।
এদিকে দেশের অকটেন সংরক্ষণ সক্ষমতার চেয়ে বেশি মজুত হয়ে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। নতুন করে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসায় পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে। ফলে কোথাও অতিরিক্ত মজুত, আবার কোথাও সরবরাহ ঘাটতি—এই বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোক্তাদের ভোগান্তি কমাতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তাদের সংরক্ষণ সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তারা একসঙ্গে বেশি তেল নিতে পারছে না। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে ধীরে ধীরে, যা বাজারে সরবরাহ ব্যাহত করছে।
বর্তমানে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর চালু হওয়া সরবরাহ সীমাবদ্ধতাও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ—এই তিন স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই সংকটকে জটিল করেছে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতে এই বিপরীতমুখী অবস্থা—একদিকে উদ্বৃত্ত, অন্যদিকে সংকট—নীতি ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভোক্তাদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

