জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কোনো শর্তের কারণে হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও সরকারি তহবিল সুরক্ষার প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ এতে কাজ করেনি।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তবে বাংলাদেশে তা সীমিত পর্যায়ে সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম না বাড়ানোর ফলে সরকারের আর্থিক চাপ বেড়েছিল। সে কারণেই প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুটা মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এতে আইএমএফের কোনো শর্তের সম্পর্ক নেই বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।
মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, তেলের দাম বাড়লেও তা সরাসরি বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ সামগ্রিক মূল্যসূচকে জ্বালানি তেলের অংশ তুলনামূলকভাবে কম।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকলেও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো শর্ত যদি জনস্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা গ্রহণ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া ঋণ কর্মসূচির কিছু শর্ত বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি এবং আরও কিছুদিন চলতে পারে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে সরকার জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

