দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত। একই সময়ে নতুন করে শতাধিক শিশুর শরীরে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ১৬৫ শিশুর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে সারা দেশে ১ হাজার ১৯৭ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে, যাদের মধ্যে ৮০৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই ভর্তি হয়েছে ৫৬৩ শিশু। মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুটির মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। এ সময়ের মধ্যে হামে ৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৮১ শিশু। একই সময়ে মোট ২৩ হাজার ৬০৬ শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৩২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং ৩ হাজার ৪৪৩ শিশুর শরীরে রোগটি নিশ্চিত হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ৬৪৫ শিশু হাসপাতাল ছেড়েছে, যার মধ্যে ৩০০ জনই ঢাকা বিভাগের।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর অন্যতম কারণ হলো টিকাদানের ঘাটতি এবং জনসচেতনতার অভাব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

