বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
রোববার ১৯ এপ্রিল দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং বর্তমান পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, সেটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধকালীন অবস্থার মতো। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং অনেক দেশই ইতোমধ্যে তাদের মূল্য সমন্বয় করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকেও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধ শুরুর পর যে দামে জ্বালানি আমদানি করে মজুদ করা হয়েছে, তার চেয়েও কম দামে এখন মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে দাম রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার একটি বড় বিষয়, যা বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, এখনো ভর্তুকি রয়েছে, তবে এর সুনির্দিষ্ট হিসাব জানতে হলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রয়োজন। তার মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং পুরো বিশ্বেই পড়ছে।
সব মিলিয়ে এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

