ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সাম্প্রতিক চাকরিচ্যুতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহালের বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকেন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চাকরি হারানো কর্মীরা তাদের অভিযোগ আদালতে তুলে ধরেছেন এবং আদালত সেগুলো যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তার ভাষায়, বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে, তাই প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলাদা করে কোনো মন্তব্য করা উপযুক্ত নয়।
তিনি আরও জানান, একই বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক–এর কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে এবং আদালতের পাশাপাশি তাদের পর্যবেক্ষণও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্যাংকটি থেকে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পূর্ববর্তী সময়ের নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক দক্ষ কর্মীকেও এ প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জানা গেছে, এ বিষয়ে একটি রিট নিম্ন আদালতে খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পুরো বিষয়টি এখন বিচারিক বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, চাকরিচ্যুতির যৌক্তিকতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। সার্বিকভাবে, এই ইস্যুতে এখন সব পক্ষের দৃষ্টি আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে। আদালতের রায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থানই নির্ধারণ করবে, চাকরিচ্যুত কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী হবে।

