নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা এবং এই খাতে ক্যারিয়ার গঠনের বাস্তব পথ নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ শিল্প-অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্যানেল আলোচনা। শিক্ষার্থী ও তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং শিল্পের চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন খাতের পাঁচজন অভিজ্ঞ পেশাজীবী প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের করপোরেট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় খাতটির প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ, হাইব্রিড সিস্টেম, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং বড় পরিসরের বিদ্যুৎ প্রকল্পে দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে। ফলে এই খাতে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক পেশাজীবীর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, আর্থিক বিশ্লেষণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দক্ষতাকেও এখন সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একজন প্যানেলিস্ট উল্লেখ করেন, প্রকল্প মূল্যায়ন ও আর্থিক ডিউ ডিলিজেন্সের মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও অর্থনীতি—দুই ক্ষেত্রের সমন্বিত দক্ষতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা জ্ঞানসম্পন্ন পেশাজীবীরাও এই খাতে ভালো সুযোগ পাচ্ছেন।
ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর সীমিত বা পরীক্ষামূলক বিনিয়োগ নয়; বরং এটি ব্যাংকগুলোর মূল কৌশলগত বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর একটি। পরিবেশ, সামাজিক ও প্রশাসনিক মানদণ্ড বা ইএসজি সম্মতি এখন বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে গ্রিন ফাইন্যান্সিং ও টেকসই অর্থায়নে দক্ষ জনবলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এখন পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত মান বজায় রাখার প্রমাণ চাইছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেন, রুফটপ সোলার, স্মার্ট এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, পাওয়ার কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের মতো ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল করবে। আলোচনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং শিল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞরা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের পরামর্শ দেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও শিল্পের বাস্তব চাহিদার মধ্যে দূরত্ব কমানোই এই ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এতে করে তরুণরা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল জ্বালানি খাতে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

