দেশে হামের টিকা সরবরাহে বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব তীব্র হয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও নীতিগত অস্থিরতার ফলে সময়মতো টিকা পৌঁছাতে না পারায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
গত ২ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা এবং উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার কারণে সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। এর প্রভাবে দেশে হামের বিস্তার বাড়ে এবং এ পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমস্যার মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব। তাদের মতে, টিকা কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বানের কারণে সময় নষ্ট হয়েছে।
তারা বলেন, পরিকল্পনা ও অর্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পৃথক শর্ত আরোপের কারণে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে যায়। এমনকি উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের পরও অর্থ ছাড় পেতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অতীতে টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি তুলনামূলক দ্রুত ও কম জটিল পদ্ধতি চালু ছিল। সেই কাঠামো থেকে সরে এসে নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বাস্তবায়ন পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হলে এ সংকট এড়ানো যেত।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত না রেখে পুরোনো কার্যকর কাঠামো বাতিল করায় টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি জনস্বাস্থ্য ইস্যু যথাযথ অগ্রাধিকার না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত এক দিনে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরে নিশ্চিত সংক্রমণে কয়েক ডজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর সন্দেহজনক উপসর্গে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।
এদিকে টিকা সংগ্রহ নীতির পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক নীতিনির্ধারক দাবি করেছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং নীতিগত বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তার মতে, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতেই নিয়মভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দুর্বলতা তুলে ধরেছে। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত, কার্যকর সমন্বয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।

