রাজধানী ঢাকার যানজট ও বিশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস চালু থেকে শুরু করে সাইকেল শেয়ারিং, বৈদ্যুতিক বাস এবং মনোরেল—বিভিন্ন পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু রুটে নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করা হবে। এসব বাসে চালক ও সহকারী হিসেবে নারীরাই কাজ করবেন। এতে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত বাড়াতে রাজধানীর কিছু এলাকায় সাইকেল রাইড শেয়ারিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে সাইকেল স্ট্যান্ড, নির্দিষ্ট লেন এবং সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নও পরিকল্পনায় রয়েছে।
মধ্যমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বাস রুট পুনর্বিন্যাস বা রেশনালাইজেশন পরিকল্পনা আবার সক্রিয় করা হচ্ছে। এতে এলোমেলো বাস চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট রুট ও কোম্পানির অধীনে শৃঙ্খলাপূর্ণ সেবা চালু করা হবে। বাস নির্দিষ্ট স্টপেজে থামবে, যাত্রী ওঠানামার নিয়ম মানা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক দৌড় কমানো হবে। এর মাধ্যমে যানজট কমানো এবং যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের জন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে সাধারণ যাত্রী পরিবহনেও এসব বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল বা লাইট রেল চালুর চিন্তা করা হচ্ছে। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ও সংকীর্ণ এলাকায় যেখানে মেট্রোরেল স্থাপন কঠিন, সেখানে মনোরেল কার্যকর সমাধান হতে পারে। একক লাইনের ওপর চলা এই পরিবহন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম জায়গা দখল করে এবং দ্রুত নির্মাণযোগ্য।
এছাড়া গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে চালক, কন্ডাক্টর ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ছাড়, শ্রমিকদের ইউনিফর্ম এবং সেবা মান উন্নয়নের মতো কল্যাণমূলক উদ্যোগও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ আলাদা আলাদাভাবে নয়, সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তবেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে। একাধিক পরিবহন ব্যবস্থাকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

