মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে। নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উচ্চমূল্যের স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, ফলে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকি উভয়ই দ্রুত বেড়ে গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মোট প্রয়োজনীয় ৩০টি কার্গোর মধ্যে ২৮টিই স্পট মার্কেট থেকে কেনা হচ্ছে, যেখানে দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
পরিস্থিতি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিকল্প বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু স্পট মার্কেটের অস্থির দামের কারণে আমদানি ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলে ভর্তুকি ব্যয় ছিল প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বেশি। মে ও জুন মাসেও একই ধরনের চাপ অব্যাহত থাকে। ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম সমন্বয় না হওয়ায় পুরো অতিরিক্ত ব্যয় সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে।
শুধু এলএনজি নয়, সামগ্রিক জ্বালানি খাতেও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের মতো জ্বালানি পণ্যে প্রতি লিটারেই উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বিকল্প উৎস, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং পাইপলাইন পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পট মার্কেটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সাময়িক চাহিদা পূরণ করলেও দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ বাড়ায়। তাই জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

