প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত এএস লেভেলের গণিত পরীক্ষা বাতিল করেছে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘ম্যাথমেটিকস পেপার ১২’ পরীক্ষাটি প্রশাসনিক জোন ৩ ও ৪-এর আওতাভুক্ত দেশগুলোতে বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ।
কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে ওই পরীক্ষার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষার্থীকে নতুন প্রশ্নপত্রে আবার পরীক্ষা দিতে হবে।
নতুন পরীক্ষা আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত কোনো ফি দিতে হবে না বলে জানিয়েছে বোর্ড। পাশাপাশি ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়ও অপরিবর্তিত থাকবে। আগামী ১১ আগস্টই ফল প্রকাশ করা হবে।
কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই বিকল্প পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন পরীক্ষার ভিত্তিতে যে ফল প্রকাশ করা হবে, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতেও কোনো সমস্যা হবে না। বোর্ড আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার নতুন ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা সম্পর্কে আগামী ১৫ মের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হবে। সেখানে প্রশ্নোত্তরসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা থাকবে।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি তদন্ত করছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, গোপন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আজীবন নিষিদ্ধও করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছে তারা।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রস্তুতি নেওয়ার পর হঠাৎ পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় মানসিক চাপ বাড়ছে। আবার নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপরও আস্থা কমিয়ে দেয়।

