দেশের মানুষ এখন গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে এবং অবিচার, নির্যাতন কিংবা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকবে না।
আজ শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের এই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে একটি পেশাদার, দায়িত্বশীল এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিবছরের পুলিশ সপ্তাহ যেন জনগণের আস্থাভাজন বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য জনগণের কাছে পুলিশের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট ও প্রয়োজনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের সাফল্য বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশের উন্নয়নকে জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

