ওয়ান ইলেভেনের সময় গঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর নেপথ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, সে সময় সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনকে “ডি ফ্যাক্টো গভর্নমেন্ট” হিসেবে দেখা হতো এবং কার্যত তারাই রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করতেন।
গতকাল রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মাসুদ উদ্দিনকে অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ কারণে তাকে সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাই চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে আরও দুদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। নতুন তথ্য সামনে এলে আবারও তাকে জেরা করার প্রয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়কার নানা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেও মাসুদ উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে উঠে আসছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে। যেসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ মিলবে, সেসব মামলায় তাকে আসামি করা হবে বলেও জানান তিনি। একই ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রোববার এ আদেশ দেন।

