আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ। বিদেশে পালানোর চেষ্টা করার সময় রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তি হায়দার কবির মিথুন। তিনি ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রবিবার ভোরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে জমি হস্তান্তর কিংবা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে গ্রাহকেরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আইনের আশ্রয় নেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা দেখিয়ে একটি প্রকল্পে শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। আকর্ষণীয় মুনাফা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিতে বহু মানুষ সেখানে বিনিয়োগ করেন।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি কয়েক ধাপে প্রায় ১৩ লাখ টাকা জমা দেন। একইভাবে আরও অনেক গ্রাহক বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ প্রতিষ্ঠানটির অফিসে জমা করেন। অর্থ গ্রহণের সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে মানি রিসিট ও চেক দেওয়া হলেও পরে কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও হোটেল প্রকল্পের নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই অর্থ আত্মসাৎ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। অনেককে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা যায়।এদিকে পরে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দিয়ে আগের আর্থিক লেনদেনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া কর্মকর্তা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও তা আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে গোপনে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। বিমানবন্দরে নজরদারির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত বিচার এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আবাসন খাতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

