ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। নতুন এই আদেশের ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার পাশাপাশি মামলার বিষয়ে রুল জারি করেছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর আগে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ পাঁচটি পৃথক মামলায় তাঁর জামিন বহাল রাখে। সেই জামিনের পরও নতুন করে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
নতুন দুই মামলায় জামিন পাওয়ার ফলে এখন খায়রুল হকের মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে দাবি করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি বলেন, এ দুটি মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না, পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। এরপর একাধিক হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং বিভিন্ন সময় আদালতে জামিনের আবেদন চলতে থাকে।
মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেওয়া রায় জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের করা পৃথক একটি মামলা।
এর আগে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চ থেকে একাধিক মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। সর্বশেষ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে পাঁচটি মামলায় তাঁর জামিন বহাল রাখে।
আইনজীবীরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে জামিন পাওয়ায় এখন তাঁর মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করতে পারে।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া ঐতিহাসিক রায় দেয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দেয়।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জামিন প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি স্পর্শকাতর নজির তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি বিচারিক স্বাধীনতা ও আইনি জবাবদিহিতার বিতর্ককেও নতুন করে সামনে এনেছে।

