পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের দোকান, শপিং মল ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময় বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে মার্কেট ও দোকানপাট। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশনা কার্যকর ছিল।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে মানুষের কেনাকাটার চাপ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাড়তি সময় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের আগে বাজারে ক্রেতার চাপ সামাল দিতে এই বাড়তি সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে অফিস শেষ করে যারা সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আসবে।
এর আগে ৪ মে দোকান মালিক সমিতি সরকারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। তারা ঈদুল আজহার আগপর্যন্ত রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার দাবি তুলেছিল। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, সীমিত সময়ের কারণে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে এবং এতে ব্যবসা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছেন না।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও সামরিক পদক্ষেপ নেয়। একপর্যায়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
বাংলাদেশও সেই প্রভাব থেকে পুরোপুরি বাইরে থাকতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়। একই সঙ্গে দোকান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল।
পরে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অনুরোধে সেই সময়সীমা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এখন ঈদ উপলক্ষে আবারও তিন ঘণ্টা বাড়তি সময় দেওয়া হলো।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে এই সময় বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে ব্যবসা সচল রাখতে এবং বাজারে স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে সরকারকে বাস্তবতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও এখনও সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তাই একদিকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখা, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

