ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাতে হওয়া এই কম্পনে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও ভূমিকম্পের আকস্মিক ধাক্কায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ইরানের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬ এবং উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তেহরানের পূর্বাঞ্চলের পারদিস শহরের কাছাকাছি, যা রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া কারাজ শহর থেকেও এর দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিলোমিটার।
কম্পনটি শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজধানীর পূর্বাঞ্চল ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি এলাকা এবং মাজান্দারান প্রদেশের কিছু শহরেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে দেখা যায়, অনেক মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ কেউ ভবনের নিচে অবস্থান না করে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প খুব বড় ধরনের ধ্বংস ডেকে না আনলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। বিশেষ করে তেহরানের মতো জনবহুল শহরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শহরটিতে বহু পুরোনো ভবন রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো শক্তিশালী ভূমিকম্প সহনশীল নয় বলে বিভিন্ন সময় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি একাধিক সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প দেখা যায়। অতীতে দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সামান্য কম্পনও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রের কাছে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া সবসময়ই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ রাজধানীজুড়ে বিপুল জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাপ এবং পুরোনো নগর পরিকল্পনা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

