আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েকদিন ধরে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা হবে না। ঢাকায় একটি জানাজার আয়োজন থাকলেও এর স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ হয়নি।
তার বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু জানান, দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর গত বছরের ১৪ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। বর্তমানে মরদেহ মিরসরাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং মা পাঞ্জেবুনেছা। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী। ১৯৬৬ সালে লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন।
লাহোরে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন। পরে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মিরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে তিনি চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

