দেশের শিশুদের টিকাসেবা কার্যক্রম জোরদার করতে সিনোভ্যাক বায়োটেক–এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে। এই টিকা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের দেওয়া হবে।
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়–এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি সাওপেং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেকের প্রধান ব্যবসা পরিচালক লি নিংসহ দুই দেশের বিভিন্ন কর্মকর্তা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুদান হিসেবে পাওয়া মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল ইনঅ্যাক্টিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে ইপিআইয়ের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২২ সালে এই টিকাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অনুমোদন বা প্রি-কোয়ালিফিকেশন দিয়েছে। ফলে এটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকা হিসেবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের টিকাসংকটের সময়ে এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এটি দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
তিনি আরও জানান, দেশে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই বাকি শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কর্মসূচিও দ্রুত শুরু করা হবে। ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিনোভ্যাকের প্রতিনিধি লি নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। এই সহায়তা শিশুদের সুরক্ষা এবং পোলিও নির্মূল কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা না গেলে শিশুদের মধ্যে পোলিওসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

