আসন্ন ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টমস হাউস ও স্টেশন (ঈদের দিন ছাড়া) খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোও চালু রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানায়। বিজিএমইএ জানায়, রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাত সময়সীমা বা ‘লিড টাইম’-এর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ না হলে রপ্তানি আদেশ বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও প্রভাব ফেলে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পোশাক খাত বর্তমানে নানা চাপের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বন্দর, কাস্টমস, ব্যাংক এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মতো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সেবা অত্যন্ত জরুরি।
সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে, ঈদের দিন বাদে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস হাউস ও ব্যাংক খোলা রাখা হোক। এতে চলমান রপ্তানি অর্ডার সময়মতো জাহাজীকরণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে তারা।
শিল্প মালিকদের মতে, ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটি থাকলে কাঁচামাল ছাড়, পণ্য খালাস ও রপ্তানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্ডার হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ছুটির সময় সীমিতভাবে কাস্টমস ও ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা বাস্তবসম্মত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে শ্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।

