দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকি সাতজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশে মোট মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নতুন এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হামের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৩৬৩ শিশু।
একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৫০ জনে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৫৩ হাজারের বেশি শিশু ও রোগী। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। তবে দেশের অন্যান্য বিভাগেও রোগটির সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। তারা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
চিকিৎসকেরা শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে সকাল পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

