দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত শিশু, আর বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি ছয়জনের মধ্যে ছিল হামের বিভিন্ন উপসর্গ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ১ হাজার ৩৬৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এতে করে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম শনাক্ত হওয়া শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে মারা গেছে আরও দুই শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মৃত্যুর সংখ্যা নয়, আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেক পরিবার শুরুতে সাধারণ জ্বর বা ত্বকে ফুসকুড়িকে গুরুত্ব না দেওয়ায় পরে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মোট ৩৬৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৭০ শিশু। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৪৩৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৪১৯ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে ৩৯ হাজার ১৬০ শিশুকে। যদিও কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ শিশু।
এদিকে একই সময়ের মধ্যে ৭ হাজার ৩০৫ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা। পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুর জ্বর, চোখ লাল হওয়া, শরীরে লালচে দানা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চিকিৎসকেরা আরও বলছেন, হামকে অনেকেই সাধারণ শিশু রোগ হিসেবে দেখলেও এটি কখনও কখনও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যখাতেও তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। অনেক এলাকায় শয্যাসংকটের কথাও জানা যাচ্ছে। ফলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

