যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেললাইন অংশ সংস্কার করে তা সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সেতুর সড়ক প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে। এ কাজ বাস্তবায়নে চীনের একটি যৌথ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
চুক্তি অনুযায়ী, সেতুর অব্যবহৃত রেল লেনকে যান চলাচলের উপযোগী করে পুনরায় সংস্কার করা হবে। এতে সেতুর সড়ক প্রস্থ প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিটার বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের যমুনা সেতুর ডেক সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিবদ্ধ চীনা যৌথ প্রতিষ্ঠান হলো সিসিসিসি–সিআরবিসি (জেভি)। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস এবং যৌথ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ওয়াং বেনচিয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, দ্রুত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে সেতু সম্প্রসারণের কাজ গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে আসে। তিনি আরও বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে যমুনা সেতুর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।
সেতু বিভাগ জানায়, যমুনা সেতুতে পৃথক রেল সংযোগ চালুর পর অব্যবহৃত থাকা রেল লেনটি সংস্কার করে সড়ক হিসেবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। এতে যান চলাচলের জন্য অতিরিক্ত ৩ দশমিক ৫ মিটার জায়গা যুক্ত হবে। এ ছাড়া ডেক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে সেতুর যানবাহন ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেতুর মূল কাঠামোর সক্ষমতাও উন্নত করা হবে।
সংস্কারকাজ শেষ হলে যমুনা সেতু আরও টেকসই ও কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ। অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সিসিসিসি–সিআরবিসি যৌথ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

