দেশে শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, সাইবার অপরাধের বিস্তার, মহাসড়কে ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিল্প পুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মতো ইউনিটগুলো বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ইউনিটের কাজের পরিধি ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে শুধু জনবল নয়, প্রয়োজন আধুনিক প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তাও। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞরা শিল্প পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, দেশের শিল্প খাত, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বর্তমানে শিল্প পুলিশের কার্যক্রম সীমিত কয়েকটি অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিল্পপ্রধান সব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ইউনিট গঠন ও নতুন জনবল নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
একইভাবে নৌপথে চোরাচালান, অপরাধ দমন এবং নদীবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের জলপথভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ইউনিটের দায়িত্বও বাড়ছে। অন্যদিকে, পর্যটন শিল্পের প্রসারের কারণে ট্যুরিস্ট পুলিশেও প্রশিক্ষিত সদস্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য প্রয়োজন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের মাধ্যমে শক্তিশালী করা গেলে জনসেবার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোও আরও কার্যকর ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। এদিকে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইও জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কথা তুলে ধরেছে। সংস্থাটি সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত ৫ হাজার জনবল ও স্থায়ী অফিস ভবনের দাবি জানিয়েছে।
পিবিআই প্রধান এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বর্তমানে সংস্থাটির জনবল রয়েছে ২ হাজার ৩১ জন। দেশের ৪২টি জেলায় তারা ভাড়া করা অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য দুটি পৃথক প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত পিবিআই বর্তমানে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত পরিচালনা করছে। সম্প্রতি পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এ ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোর উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ দেশের পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রচেষ্টারই অংশ।

