বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশও দ্রুত এই খাতে এগোতে চায়। এ লক্ষ্যেই আগামী জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে, যা দেশের সৌরবিদ্যুৎ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প যেভাবে দেশের অর্থনীতিতে বিপ্লব এনেছে, সৌরবিদ্যুৎ খাতও ভবিষ্যতে তেমন পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে। এজন্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে নামমাত্র শুল্ক আরোপ এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফেনীর সোনাগাজীতে বেজার মালিকানাধীন ৪১২ একর জমিতে ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী আগস্টে শুরু হতে পারে।
জানা গেছে, উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর আগে গত বছরের মার্চে প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের ৭ মে বেজা ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

