বাংলাদেশের ডিজিটাল কনটেন্ট অঙ্গনে পরিচিত মুখ কারিনা কায়সার আর নেই। লিভারজনিত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী, ভক্ত এবং বিনোদন জগতের অনেকেই স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে কায়সার হামিদ লিখেছেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার প্রিয় মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।”

তিনি আরও লেখেন, “আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে বা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।” একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
তার এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ সেখানে শোক ও সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা কায়সার। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেই পরিচিতি পান কারিনা কায়সার। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এবং ভিন্নধর্মী কনটেন্টের জন্য।
পরবর্তীতে অভিনয় জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন তিনি। ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’ নামের ওয়েব সিরিজ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন ধরনের গল্প ও চরিত্র নিয়ে কাজ করার কারণে তরুণ দর্শকদের মধ্যে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদন জগৎ দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক এবং বিভিন্ন ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ঘিরে নতুন প্রজন্মের অনেক নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী উঠে এসেছেন। কারিনা কায়সারও ছিলেন সেই নতুন ধারার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু শুধু একজন কনটেন্ট নির্মাতার বিদায় নয়, বরং তরুণ ডিজিটাল সংস্কৃতির জন্যও একটি বড় ক্ষতি। কারণ তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি ছিলেন, যারা প্রচলিত মিডিয়ার বাইরে থেকেও নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকজুড়ে শুরু হয় শোক প্রকাশের ঢল। অনেকেই তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কাজের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
ভক্তদের অনেকে লিখেছেন, পর্দার বাইরে থেকেও কারিনা ছিলেন প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক একজন মানুষ। তার হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
অল্প বয়সেই জনপ্রিয়তা পাওয়া এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, জীবনের অনিশ্চয়তা কতটা নির্মম হতে পারে।

