দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও চাঁদপুর সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম চাঁদপুর সফর, আর শেষবার তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ২০০৪ সালে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সফরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে রয়েছে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন, পথসভা, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান এবং দলীয় সাংগঠনিক সভা।
সফরসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে কুমিল্লার বরুড়ায় একটি পথসভায় অংশ নেবেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টায় লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত ওই পথসভাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনেও অংশ নেবেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, নাব্য সংকট ও কৃষিকাজে পানির সমস্যার কারণে এসব এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সফরের রাজনৈতিক অংশও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর চাঁদপুর সফর শুধু প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বার্তাও থাকতে পারে এই সফরের পেছনে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সর্বশেষ চাঁদপুর সফর করেছিলেন তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই সফর নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

