দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিদেশি প্রভাব এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে যেভাবে মীর জাফর ও রবার্ট ক্লাইভের সমঝোতা কাজ করেছিল, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূসের কথিত সম্পর্কও দেশের জন্য একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি ইউটিউবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘মানচিত্র’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে কঠোর ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।
ফজলুর রহমান বলেন, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার ইতিহাসে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার পেছনে মীর জাফর ও রবার্ট ক্লাইভের চুক্তি বড় ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান সময়ে ড. ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব সমঝোতা বা সম্পর্কের আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়েও জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের সম্পর্ক দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।
তবে তিনি তাঁর বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি, দলিল বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি। বরং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের আশঙ্কা ও মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন।
আলোচনায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও উঠে আসে। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীন দল যেসব ভুল বা অন্যায় করেছে, অন্য কোনো দল একই পথ অনুসরণ করলে তার পরিণতিও ভিন্ন হবে না। তাঁর মতে, ক্ষমতার রাজনীতিতে নীতিগত অবস্থান হারিয়ে গেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।
একই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে এখনো পাকিস্তানপন্থী মনোভাবের একটি প্রভাব রয়েছে এবং সেটি দেশের জন্য ইতিবাচক নয়। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তানের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক প্রবণতা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুতি ঘটলে রাষ্ট্র ও রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাবের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ড. ইউনূস বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

