সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, রাত প্রায় ২টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মেয়ে তাসনিম সিনহা।
মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, রাজনীতি ও শিল্পখাতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন তিনি। পরে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও পরিচিত মুখ ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তিনি দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘ সময়। পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যাংকিং খাতে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তাঁর বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। পরিবারের ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দলটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন দীর্ঘ সময়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও শেষ সময়ে তিনি অনেকটাই নীরব ছিলেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে পরে আবার দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাতেও তাঁর নাম এসেছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরে ওই আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়।
মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। তাঁরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। রাজনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—তিন ক্ষেত্রেই সক্রিয় এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

