নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় গ্যাসের পাইপ লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে স্বামী, স্ত্রী ও তিন সন্তান মারা যাওয়ার পর শনিবার তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে দাফন করা হয়।
পরিবারটি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কাড়াল বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়। একই সারিতে পাশাপাশি পাঁচটি কবর তৈরি হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজন ও স্থানীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
জানা গেছে, গৃহকর্তা কালাম মিয়া ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। পরিবার নিয়ে তিনি ভুইগড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে রবিবার সকালে, যখন রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে যান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকেই ঘরে জমে থাকা গ্যাস দেশলাইয়ের সংস্পর্শে আসতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিনের ব্যবধানে সবাই মারা যান।
প্রথমে মারা যান পরিবারের কর্তা কালাম মিয়া। এরপর পর্যায়ক্রমে মৃত্যু হয় তার তিন সন্তান ও স্ত্রী সালমা বেগমের। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো পরিবারটি নিঃশেষ হয়ে যায়। শনিবার সকালে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। জানাজা শেষে একই স্থানে পাঁচজনকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসার গ্যাস লাইনে আগেই লিকেজ ছিল এবং বিষয়টি ভবন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করছেন। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের এভাবে মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

