স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।
শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে নষ্ট হয়েছে, যার প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার এখন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা কাটাতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরা নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে খরচ সরকার পরিশোধ করবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মানুষ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
মেডিক্যাল শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে মেডিক্যাল কলেজে আসন বাড়ানো উচিত নয়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনিয়মিত ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের মান নষ্ট হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। দেশে দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ জন্য মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে তেল ও গ্যাস খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, সরকার একটি কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে এবং পুরো অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা অন্যতম বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের মান নিশ্চিত করাও জরুরি। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধা কম রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত ৭২টি পার্কিংয়ের পরিবর্তে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

