স্বাস্থ্য খাতে অতীতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে দেশের জনগণ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
আজ সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় ভর্তি বা নিয়োগের সংস্কৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নষ্ট করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মেডিক্যাল শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক, ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে মেডিক্যাল কলেজে আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, স্বাস্থ্য খাতের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা’ কর্মসূচি, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে নির্ধারিত ব্যয় সরকার বহন করবে।
চিকিৎসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি দেশে দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অভাব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, নেতিবাচক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে এবং অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল–এর নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধা কম থাকার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত ৭২টি গাড়ি পার্কিংকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণের কথাও বলেন তিনি।

