রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ (শনিবার) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা বর্তমানে গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনই পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিদর্শক বিভূতিভূষণ রায়। তারা এখনো পলাতক।
এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারাও পলাতক রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাফিউল বর্তমানে গ্রেফতার থাকলেও হাফিজুর রহমান পলাতক।
এছাড়া সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সাবেক নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই পলাতক।
মামলার রায়ে রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন ও সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকেও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারাও পলাতক রয়েছেন।
পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বি ও আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমার এবং দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই এখনো পলাতক।
এ ছাড়া ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।

