দেশ পরিচালনায় আমলাতন্ত্রের প্রভাব নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, বাস্তবে দেশ পরিচালনায় আমলাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি এবং এই বাস্তবতা দীর্ঘদিন বহাল থাকবে।
তার বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে বাস্তবতার প্রতিফলন বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন—এ ধরনের মন্তব্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য প্রশ্ন তৈরি করে।
ফেসবুক পোস্টে মাহবুব কবীর মিলন বলেন, দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন মূলত আমলারাই, কারণ প্রশাসনিক ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কেন্দ্রে তারাই অবস্থান করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশের ক্ষতির জন্যও অনেক ক্ষেত্রে আমলাদের দায় রয়েছে।
নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, তিনি কখনো প্রচলিত অর্থে ‘কেতাদুরস্ত আমলা’ ছিলেন না। জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি প্রায়ই বলতেন, সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার সময় এমন পোশাক পরা উচিত নয় যাতে প্রশাসক ও জনগণের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়। তার মতে, প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের সংযোগ আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, চাকরি জীবনে পদোন্নতি বা সুবিধা পাওয়ার জন্য কখনো আপস করেননি। কোনো অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী তথ্য গোপন করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের কাছে তিনি কখনো নতি স্বীকার করেননি।
মাহবুব কবীর মিলন বলেন, পদ, পদোন্নতি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কিংবা চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আশায় অনেক আমলা স্বাধীন অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। তার মতে, এ কারণে প্রশাসনে মেধা ও সততার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।
নিরাপদ খাদ্য ইস্যুতেও তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ব্যর্থতা অনেকাংশে দায়ী। এ বিষয়ে অতীতে তিনি বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক বা আলোচনা সভায় সমস্যার মূল কারণ অনেক সময় আড়াল করা হয়। কেবল আলোচনা নয়, বাস্তব সমাধান দেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক এই আমলার বক্তব্য দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাব, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠেছে।
তাদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

