বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারীর মাধ্যমে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা বছরে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। তবে এত বড় অঙ্কের ব্যবসা করলেও দেশের অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির দৃশ্যমান অবদান খুব সীমিত বলেও মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘টেলিকম খাতে নতুন সরকারের ভিশন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। ব্যবহারকারীপ্রতি গড়ে প্রায় ১৫ ডলার আয় ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশ থেকেই মেটার বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৭০ কোটি ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার কোটির টাকারও বেশি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ব্যারিস্টার শাহেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ মেটার জন্য বড় বাজারে পরিণত হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ, কর অবদান কিংবা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এখনো সীমিত। তিনি মনে করেন, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রযুক্তির বিস্তার ঘটিয়ে আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন–এর চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ–এর মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর প্রধান নির্বাহী নুরুল কবীরসহ টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম, করনীতি ও স্থানীয় বিনিয়োগ নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

