দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই–এর প্রশাসক পদে সরকারি কর্মকর্তার বদলে বেসরকারি খাতের একজন ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও বাণিজ্যসচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। একই সঙ্গে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালার সংস্কার এবং দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে ‘এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদ’-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব আশ্বাস দেন প্রশাসক। বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ এবং প্রশাসনিক জট কাটানোর দাবি জানান।
বৈঠক শেষে সংস্কার পরিষদের উপদেষ্টা গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। নতুন প্রশাসক হিসেবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি রয়েছে। পাশাপাশি বিধিমালার যেকোনো পরিবর্তনের আগে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংস্কার পরিষদের নেতারা জানান, নতুন প্রশাসক নিয়োগের পর দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতিও এসেছে বৈঠকে। এ কারণে প্রশাসকের পদত্যাগ দাবিতে ঘোষিত সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে সংস্কার পরিষদের সদস্যসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। সে সময় সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করলে সরকার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
প্রথমে মো. হাফিজুর রহমান প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করলেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। পরে গত নভেম্বরে অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খানকে ১২০ দিনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে চার মাসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ বাড়ছিল।
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় এফবিসিসিআইয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন ইস্যুতে সংগঠনটির সক্রিয় ভূমিকা কমে গেছে। তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

