সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিদ্যমান আইন কার্যকর থাকলেও এবার আলাদা করে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই আইন কেবল বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য হবে, নাকি সব সরকারি কর্মচারীকে এর আওতায় আনা হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ উদ্দেশ্যে গত ১২ নভেম্বর ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরি–সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করবে এই কমিটি।
কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এতে নতুন সদস্যও যুক্ত করা যাবে। সংশ্লিষ্ট এক সদস্য জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চাকরিবিষয়ক সব আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন আইনের কাঠামো তৈরি করা হবে। খুব শিগগিরই কমিটির বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে নতুন এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি চাকরি আইনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তাদের ধারণা, প্রাথমিকভাবে বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য আইনটি প্রণয়নের আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সরকার চাইলে শুধুমাত্র ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা আইন করতে পারে। আবার সব সরকারি কর্মচারীকেও একই আইনের আওতায় আনা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারি চাকরি আইনে সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, পূর্ণাঙ্গ খসড়া ছাড়া এই আইন কতটা কার্যকর হবে বা এর পরিধি কী হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে আইন প্রণয়নের সময় আন্তঃক্যাডার ও ক্যাডার-ননক্যাডার বিভাজন যেন না বাড়ে এবং সংবিধানের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
একজন সাবেক সচিবও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই পৃথক সিভিল সার্ভিস আইন রয়েছে। বাংলাদেশেও সরকার চাইলে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য কিংবা পুরো বেসামরিক প্রশাসনের জন্য আলাদা আইন করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
নতুন আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনুবিভাগের যুগ্মসচিবদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে জনপ্রশাসন সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার, ই-গভর্ন্যান্স বিস্তার এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধানের আলোকে একটি কার্যকর সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়নের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

