রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস যোগাযোগ হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। পূর্বঘোষণা ছাড়াই এমন কর্মসূচি শুরু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণে বের হওয়া মানুষজন।
রাজশাহীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে সকাল থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন, কেউ চাকরির সাক্ষাৎকারে, আবার কেউ ব্যক্তিগত জরুরি কাজে অন্য জেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকেই অনিশ্চয়তায় পড়ে যান।
জানা গেছে, এই অচলাবস্থার মূল কারণ রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুমিনুল ইসলাম মুমিনকে মনোনীত করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় অনেক শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, সাধারণ শ্রমিকদের মতামত না নিয়েই কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে সংগঠনের ভেতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দাবি করছেন, বর্তমান কমিটি বাতিল করে আপাতত একটি আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সব পক্ষের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া নেতৃত্ব চাপিয়ে দিলে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে না।
শ্রমিকদের একটি অংশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন খাতে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ জমে ছিল। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আন্দোলনের পথেই হাঁটছেন তারা।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সকাল থেকে অনেক যাত্রী টার্মিনালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো বাস না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ট্রেন বা ছোট যানবাহনের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে সেখানেও দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়ে আশ্বাস দেয়, তাহলে তারা বাস চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে বিবেচনা করবেন। তবে আলোচনায় সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

