দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন জাতীয় সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ কমিটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে।
সরকারি সূত্র জানায়, কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তারেক রহমান। কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কমিটিতে প্রশাসন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এবং পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের প্রধানরা। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকরাও কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি জাতীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যক্রমের সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
কমিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করা। এতে রাজনৈতিক, সামাজিক বা অনলাইনভিত্তিক যেকোনো অস্থিরতা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রচলিত আইন ও বিধিমালার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে এই কমিটির ওপর। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করাও এর কার্যপরিধির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
কমিটির সচিবালয় হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য সংস্থাকেও সচিবালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কেন্দ্রীভূত করতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান–প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।

