রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় এবং শুধু কয়েকটি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়—এমন অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রকাশ্য বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
আজ সোমবার গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত প্রাক্-বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, তার সংসদীয় এলাকা তেজগাঁও–কারওয়ান বাজার অঞ্চল “চাঁদাবাজির বড় কেন্দ্র”। তার দাবি অনুযায়ী, বাজার এলাকায় দৈনিক কয়েক কোটি টাকার মতো অবৈধ আদায় হয় এবং বিশেষ কিছু পাইকারি দোকান থেকেই নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে অতীতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল জড়িত ছিল এবং বর্তমানে কারা জড়িত তা তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গেও এ ধরনের চক্রের সম্পর্ক থাকতে পারে।
তার বক্তব্যের জবাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম ছাড়া এমন অভিযোগকে তিনি “ঢালাও বক্তব্য” হিসেবে দেখছেন। তার মতে, যদি সত্যিই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে স্পষ্ট তথ্য ও নামসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, জনগণের সামনে অভিযোগ তোলা হলেও প্রমাণ ছাড়া তা বিভ্রান্তি তৈরি করে। তার দাবি, যে কোনো দলের সদস্য হোক না কেন, অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জবাবে সাইফুল আলম খান আবারও দাবি করেন, বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চলমান রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, কারওয়ান বাজার ছাড়াও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এবং তেজগাঁও এলাকায়ও একই ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব বন্ধে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় উপস্থিত অন্য বক্তারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় চাঁদাবাজির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, অবৈধ আদায় ও পরিবহন–বাজার সিন্ডিকেট সরাসরি নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র নিয়ন্ত্রণে না এলে এ ধরনের অভিযোগ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তব তদন্তের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
সংলাপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, শুল্ক নীতি এবং স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম একসঙ্গে সমাধান না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। সব মিলিয়ে কারওয়ান বাজারকে ঘিরে ওঠা চাঁদাবাজির এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা এখন তদন্ত ও প্রশাসনিক নজরদারির দাবি আরও জোরালো করছে।

