র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তন বা নতুন এলিট ফোর্স গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
সোমবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে র্যাবের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ করছে। নতুন আইনে বাহিনীর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব নির্ধারণ স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি জানান, এলিট ফোর্স হিসেবে নতুন কাঠামো বা নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, অতীতে কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের দায় পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানগত নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।
২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময় বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, আগের সরকারের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী বাহিনীর ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যক্রমের সীমা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে আইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাখা হবে।
বর্তমানে র্যাব পরিচালিত হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের অধীনে। তবে সরকার মনে করছে, একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্সের জন্য আলাদা আইন থাকা প্রয়োজন। এজন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
র্যাব বিলুপ্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন রয়েছে। তাই নতুন কাঠামোতে হলেও একটি এলিট ফোর্স থাকবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ এবং র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কার্যক্রমে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

