রাজধানীর অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিজয় সরণিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে কলমিলতা বাজারে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। ভোরের নীরবতা ভেঙে আগুনের লেলিহান শিখা আর ধোঁয়ার কালো কুণ্ডলী দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর তাদের কাছে পৌঁছায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই, অর্থাৎ ভোর ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কলমিলতা বাজারের একটি দুইতলা মার্কেটের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও সিদ্দিকবাজার স্টেশনের মোট ১০টি ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করে। ভোরের দিকে আগুন লাগলেও ঘন ধোঁয়া এবং মার্কেটের ভেতরের দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মার্কেট ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। অনেক দোকান বন্ধ থাকায় ভেতরে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তখনই বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আগুনে বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যেতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন যেন পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ বিজয় সরণি এলাকা সবসময়ই যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে। সেখানে বড় ধরনের আগুন পুরো এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। অধিকাংশ মার্কেটে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ কিংবা বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পুরোনো মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ তার ব্যবহারের কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্তের মাধ্যমে এর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

