আকাশপথে যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, আধুনিক উড়োজাহাজ সংযোজন এবং কার্গো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে একটি জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর আধুনিক করতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন সরাসরি পর্যটন শিল্পকে গতিশীল করবে। এ কারণে দেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান বর্তমান অবস্থান থেকে বাড়িয়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটক আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপও প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। আধুনিক বিমানবন্দর, দক্ষ কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ট্রানজিট ও এভিয়েশন ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকলেও সরকার বৈদেশিক ঋণ, অনুদান এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে তা পূরণের পরিকল্পনা করেছে।
সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্থনীতির এই সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বিমান ও পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বাজেটে।

