এম এস রহমান, পাবনা প্রতিনিধি—
পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নে প্রয়াত পাখিবন্ধু আকাশকলি দাসের গড়ে তোলা পাখির অভয়াশ্রম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় লইয়ার্স সোসাইটি ফর ল-এর পক্ষে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে গত ১৮ মে আদালত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পাবনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী, সচেতন নাগরিক ও প্রাণী অধিকার কর্মীরা দ্রুত তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের এই অনন্য পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাবনা জেলা প্রশাসকসহ ১০টি সরকারি দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১২ মে লইয়ার্স সোসাইটি ফর ল-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেজবাহুল ইসলাম আসিফ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
শুনানি শেষে তিনি জানান, পূর্বের নোটিশে সাড়া না পাওয়ায় জনস্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। মঙ্গলবার ১৯ মে শুনানিতে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভয়াশ্রম সংরক্ষণে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন এবং অবহেলা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চান।
উল্লেখ্য, প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর চিরকুমার আকাশকলি দাস পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে এই পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলেন। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে অবদানের জন্য তিনি অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন-২০২৪ সহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।

গত বছরের ১৮ আগস্ট (২০২৫) তার মৃত্যুর পর অভয়াশ্রমটি সংকটে পড়ে। পরে অসিত ঘোষ, অসীম ঘোষ ও মোহাম্মদ আলী নামে তিন ব্যক্তি সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই পক্ষটি মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্প এবং আইইউসিএন ঘোষিত এই অভয়াশ্রমের গাছ কেটে ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে পরিবেশের ক্ষতি করে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের লিখিত নির্দেশ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে নির্দেশনা পেলে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

