সরকার রাজধানীর মেট্রোরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ভাড়া কমানোর নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের একক যাত্রার ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনপরিবহনে সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ‘সুবর্ণ পরিচয়পত্র’ দেখিয়ে এই সুবিধা নিতে পারবেন। অন্যদিকে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত করে ছাড় কার্যকর হবে।
এর আগে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দিয়ে আসছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ছাড়ের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং একই হারে প্রবীণদের জন্য নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
নীতিগতভাবে দেশে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রবীণ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হলেও মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কেবল ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের পরিচালন ব্যয়, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং রাজস্ব স্থিতিশীলতা বিবেচনায় এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই ভাড়া ছাড়ের কারণে বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকার মতো রাজস্ব কমতে পারে, যা মোট টিকিট আয়ের প্রায় তিন শতাংশ। তবে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সামাজিক সুবিধা সম্প্রসারণের এই ব্যয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যের মধ্যে সামলানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া ছাড়ের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে কি না, তা মেট্রোরেলের আয় ও পরিচালন সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নগর পরিবহনে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তবে একই সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

