রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার (২৩ মে) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৪৯২ ধারার ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চলমান পল্লবী থানার মামলা নম্বর ৩৫ (তারিখ ২০ মে ২০২৬)-এর রাষ্ট্রপক্ষ পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু-কে বিশেষ সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(২)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় রুজু করা হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষকে দক্ষভাবে পরিচালনা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মঙ্গলবার মিরপুর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের একটি আবাসিক ভবন থেকে স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি ঘর থেকে বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা স্বপ্না আক্তারকে ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে সোহেল রানা ঘটনাস্থল থেকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। একই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতি মামলার আসামিদের পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা বা ওকালতনামা দাখিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া আরও জোরদার ও দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

